গ্রিনল্যান্ড দখল করার ঘোষণা ট্রাম্পের

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:১৮ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবেই। দ্বীপটির জনগণ কিংবা ডেনমার্ক এই পরিকল্পনা পছন্দ করুক বা না করুক, ওয়াশিংটন সেখানে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সম্প্রতি তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নেয়, তাহলে সেখানে রাশিয়া কিংবা চীন প্রভাব বিস্তার করবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে তিনি কখনোই দেখতে চান না।

আরও পড়ুন: ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি

এই লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প প্রথমে ‘সহজ উপায়ে’ সমাধানের কথা বললেও প্রয়োজনে ‘কঠিন উপায়ে’—অর্থাৎ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেও গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গ্রিনল্যান্ডকে লিজ নেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি মালিকানা কেন প্রয়োজন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ভূখণ্ডকে সঠিকভাবে নিরাপদ রাখতে হলে তার মালিক হওয়াই জরুরি। লিজ নেওয়া জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

রুশ সংবাদসংস্থা তাস শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্প বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে দরকষাকষির পথ খোলা রেখেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে খুশি করতে দেশে সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা: খামেনি

এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন, গ্রিনল্যান্ড প্রথমে স্বাধীনতা অর্জন করবে এবং পরে শান্তিপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হবে।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ১৯৫১ সালে স্বাক্ষরিত এক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটোর আওতায় দ্বীপটির নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প সবসময়ই খোলা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থান ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে ডেনমার্ক তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবস্থানে অনড়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘মালিকানা’ দাবি করে এগিয়ে যাচ্ছে।

খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রাম্পের ‘সহজ কিংবা কঠিন’ যেকোনো পথই গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক শান্তিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।