মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ১৫ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আলোচনার এই উদ্যোগের মধ্যেই অঞ্চলটিতে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে ইউএসএ টুডে জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও ১৫ দফা প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, ধারণা করা হচ্ছে এতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা: আল জাজিরা
এদিকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ওয়াশিংটন। পেন্টাগন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে প্রায় ১,০০০ থেকে ৩,০০০ প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে পাঠানো এই সেনাদের যেকোনো সময় অভিযানে নামার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজ বহরের সঙ্গে যুক্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে। তার দাবি, এই সংঘাতের একটি ‘সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধান’ সম্ভব এবং ইরান একটি চুক্তির জন্য আগ্রহী। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, তেল-গ্যাস সংক্রান্ত একটি বড় প্রস্তাবও দিয়েছে তেহরান।
আরও পড়ুন: মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ভাষণ দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান
তবে ইরান সরকার এ ধরনের সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে একে ‘ভুয়া খবর’ বলে উল্লেখ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেন। গত এক মাসে সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।





