গাজা যুদ্ধবিরতি: যুক্তরাষ্ট্র–হামাস সরাসরি আলোচনায় নতুন অগ্রগতি

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:২০ অপরাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার প্রচেষ্টায় প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং হামাস। মিশরের রাজধানী কায়রো-এ অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিএনএন-এর বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আরিয়ে লাইটস্টোন। অপরদিকে, হামাসের প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেন খলিল আল-হাইয়া।

আরও পড়ুন: চীনে আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংলাপ গাজায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ, পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং অবরোধ শিথিল করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: জর্ডান ও কাতারের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে হামাস এই প্রস্তাবকে ‘অসম ও একতরফা’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এছাড়া গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, নিরাপত্তা কাঠামো এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানকে জটিল করে তুলছে।