আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক, ৩ জনের মৃত্যু
আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী হঠাৎ করেই রূপ নিয়েছে আতঙ্কের কেন্দ্রে। অজানা উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের শরীরে পরে শনাক্ত হয়েছে বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: জুলাইয়ে ভারত থেকে আসছে ২০টি ব্রডগেজ ট্রেন কোচ
প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দেগামী এমভি হন্ডিয়াস নামের প্রমোদতরীতে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আরও অন্তত পাঁচ যাত্রীর মধ্যে সংক্রমণের সন্দেহ রয়েছে। WHO জানায়, মোট ছয়জন আক্রান্তের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে ব্রিটিশ নাগরিকদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু অধিকারীর
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালা থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এটি বিরল হলেও গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর বা তীব্র শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রমোদতরীটিতে ‘তীব্র শ্বাসযন্ত্রজনিত অসুস্থতা’র প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফস্টার মোহালে জানান, জোহানেসবার্গে চিকিৎসাধীন রোগীর শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রথমে ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে প্রমোদতরীতেই মারা যান। তার মরদেহ বর্তমানে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে রাখা হয়েছে।
পরবর্তীতে তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। তবে মৃতদের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, নিবিড় পরিচর্যায় থাকা এক রোগী ব্রিটিশ নাগরিক।
WHO জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, মহামারিবিদ্যাগত বিশ্লেষণ এবং ভাইরাসের জিনগত সিকোয়েন্সিং। আক্রান্ত যাত্রী ও ক্রুদের চিকিৎসা এবং নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।





