লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, বাস্তবায়ন নির্ভর করছে হিজবুল্লাহর ওপর

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, ০৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, ০৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

লেবানন ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘আমৃত্যু লড়াইয়ের’ ঘোষণা ইরানের

এর আগে গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার পর উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তোলে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণের অধিকার কেবল দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রেরই রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে লেবাননের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সব সদস্য ও অপারেটিভকে প্রত্যাহার করতে হবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে কয়েকটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। এসব এলাকায় অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।

গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। সেই সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের হামলা চালাবে না।

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন আবারও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে দুই পক্ষের। তবে নতুন ঘোষণার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল লেবানন গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, উত্তর সীমান্তে নতুন হামলা হলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহে পুনরায় বিমান হামলা চালানো হতে পারে।