নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসন, আইজেনকটের জোট ৪৮
ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ
ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সব ভোট গণনা শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।
শুক্রবার ভোরে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। তবে কোনো ভুল বা অভিযোগের বিষয়ে শেষ দফার যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বসনিয়ায় ইতালির সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪
এরপর নতুন সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে প্রতিটি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট। দলগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। কয়েক দশকের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। মোট ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫টি ভোট গণনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল
কোন দল কত আসন পেল
চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। ইয়াশার পেয়েছে ২১টি এবং বি’ইয়াচাদ পেয়েছে ১২টি আসন। এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি, রা’আম ৮টি, ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, ওতজমা ইয়েহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়নবাদ ৬টি আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনী বাধা অতিক্রম করতে পারেনি। একইভাবে ওফার উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে গঠিত দ্য চ্যারেডি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।
ইসরায়েলের নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দলকে সংসদে আসন পেতে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।
আরব দলগুলোর রেকর্ড আসন
এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের সংসদে দল দুটির আসন ছিল মোট ১০টি। অর্থাৎ এবার তাদের আসন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এই আসনগুলো বিরোধী জোটের পক্ষে গেলে সরকার গঠনের সমীকরণ বদলে যেতে পারে। তবে জায়নবাদী বিরোধী জোটের অধিকাংশ দলই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। শুধু দ্য ডেমোক্র্যাটস এ অবস্থান থেকে আলাদা।
বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবার তা কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সমর্থন অর্জন করতে পারেনি।
ভোট কারচুপির অভিযোগ নাকচ নির্বাচন কমিশনের
নির্বাচনে কাতারের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ ওঠে। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছে।
শুক্রবার ভোরের বিবৃতিতে কমিশন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনের আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, দিনভর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, তদন্তের কারণে প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে না এবং তদন্তটি নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।
আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা বেশ জটিল হতে পারে এবং তা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে সবার উচিত খোলা মন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
চার বছর আগে তিন বছরের মধ্যে পাঁচবার নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছিল ইসরায়েল। ওই সময় প্রথম চারটি নির্বাচনেও স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব হয়নি। নতুন নির্বাচনের ফলাফলেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।





