হামে মৃত ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে রিট
হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ৩৫২ শিশুর পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যু সাড়ে ৩শ’ ছাড়িয়েছে। সবশেষ শনিবারও (৯ মে) হাম ও এর উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে খুলনা বিভাগে ২ ও সিলেটে হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া শনিবার হামে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা, ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ৪৭ হাজার ৬৫৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৯৭৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩৩ হাজার ৬৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৯ হাজার ৭৪৬ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আরও পড়ুন: মিরপুরের মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাব সঠিক বলে ধরে নিলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, টিকার সংকট এবং হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে সরকার। হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, এ ক্ষেত্রে কারও কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা এবং গরমে ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। শিশুর শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।





