ডায়েট ও ব্যায়াম করেও ওজন কমছে না? এর পেছনে আছে যেসব শারীরিক কারণ
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট মেনে চলেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং জীবনযাত্রায় নানা পরিবর্তন আনেন। প্রথমদিকে কিছুটা ওজন কমলেও পরে অনেকের ক্ষেত্রেই তা একটি পর্যায়ে এসে থেমে যায়। এতে হতাশ হয়ে পড়েন অনেকেই। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব সময় এর জন্য খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের ঘাটতি দায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে থাকা কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যাও ওজন কমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, হাইপোথাইরয়েডিজম বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর মতো হরমোনজনিত সমস্যায় ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যেতে পারে। এসব অবস্থায় শরীরের হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: একবারে ২০–৩০ গ্রাম প্রোটিনই কি শরীর শোষণ করতে পারে? জানালেন পুষ্টিবিদরা
এ ছাড়া শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীর হয়ে যাওয়া, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও ওজন কমার গতি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে নিয়ম মেনে ডায়েট ও ব্যায়াম করলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সক্রিয় জীবনযাপন অবশ্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে যদি দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও ওজন না কমে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: লো ওভারিয়ান রিজার্ভ কী? গর্ভধারণে দেরি করলে যে বিষয়টি জানা জরুরি
প্রয়োজনে থাইরয়েডের কার্যকারিতা, রক্তে শর্করার মাত্রা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা হরমোনজনিত অন্যান্য সমস্যা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে। কারণ মূল সমস্যার চিকিৎসা ছাড়া শুধুমাত্র ডায়েট বা ব্যায়ামের মাধ্যমে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হয় না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।





