বারবার ভুলে যাচ্ছেন? শুধু ‘ব্রেন ফগ’ নয়, হতে পারে ‘ফাইব্রো ফগ’
চশমা কোথায় রেখেছেন, বাজারে গিয়ে কী কিনবেন বা অফিসে বসে কোন কাজটি আগে করবেন— এমন ছোটখাটো বিষয় ভুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। বেশিরভাগ মানুষ এটিকে মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা ‘ব্রেন ফগ’ ভেবে এড়িয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কিছু উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে এর পেছনে থাকতে পারে ‘ফাইব্রো ফগ’, যা ফাইব্রোমায়ালজিয়া নামের একটি দীর্ঘমেয়াদি জটিল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, সারা শরীরে ব্যথা, হজমজনিত সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি এবং বারবার ভুলে যাওয়ার প্রবণতা একসঙ্গে দেখা দিলে তা কেবল মানসিক চাপ বা ব্রেন ফগের লক্ষণ নাও হতে পারে। এসব উপসর্গ ফাইব্রোমায়ালজিয়ার সঙ্গে যুক্ত ‘ফাইব্রো ফগ’-এর ইঙ্গিত দিতে পারে।
আরও পড়ুন: শিশুর লিভারের রোগের ৫ সতর্ক সংকেত
কী এই ফাইব্রোমায়ালজিয়া?
ফাইব্রোমায়ালজিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা, যার প্রাথমিক উপসর্গ অনেক সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। সাধারণ ক্লান্তি বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে এমন হচ্ছে বলে ধরে নিয়ে অনেকেই চিকিৎসা নেন না। অথচ এই অবস্থায় ধীরে ধীরে সারা শরীরে ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: কিডনিতে বারবার পাথর হচ্ছে? কারণ জানুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি শনাক্ত না হলে পরবর্তী সময়ে উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক, অবসাদ এমনকি স্মৃতিশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
শরীর যেসব সংকেত দেয়
ফাইব্রো ফগ বা ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখা যেতে পারে—
- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এবং সারা শরীরে ব্যথা।
- পেশিতে জড়তা, হাত-পা নাড়াতে অস্বস্তি বা ব্যথা।
- পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অবসাদ না কমা।
- ছোটখাটো বিষয় বারবার ভুলে যাওয়া।
- মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া।
- কথাবার্তায় অসংলগ্নতা বা চিন্তা গুছিয়ে বলতে অসুবিধা।
- সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা এবং বিভ্রান্তি বৃদ্ধি।
- অনিদ্রা বা ঘুমের ব্যাঘাত।
- উদ্বেগ ও অবসাদের প্রবণতা বৃদ্ধি।
- কারা বেশি ঝুঁকিতে?
গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে রোগটির লক্ষণ বেশি দেখা যায়। এছাড়া বংশগত কারণেও এই রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মেডিটেশন বা ধ্যান চর্চা ফাইব্রোমায়ালজিয়া ও ফাইব্রো ফগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





