গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে কী খাবেন? জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস বা প্রথম ত্রৈমাসিক (১–১২ সপ্তাহ) মা ও গর্ভের শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় ভ্রূণের মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্রুত গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে অনেক হবু মা মর্নিং সিকনেস, ক্লান্তি ও খাবারের প্রতি অনীহার মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। তাই এ সময় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং খাদ্যজনিত ঝুঁকি এড়িয়ে চলা জরুরি বলে পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা শুধু মায়ের সুস্থতার জন্য নয়, অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্যও অপরিহার্য।

১. ফোলেটসমৃদ্ধ খাবার

আরও পড়ুন: বর্ষায় খাবারে বাড়তি সতর্কতা জরুরি, এড়িয়ে চলুন যেসব খাবার

ফোলেট (ভিটামিন বি৯) শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ফোলেটের ভালো উৎস:

আরও পড়ুন: একবারে ২০–৩০ গ্রাম প্রোটিনই কি শরীর শোষণ করতে পারে? জানালেন পুষ্টিবিদরা

  • পালং শাক
  • ব্রোকলি
  • মসুর ডাল
  • ছোলা
  • কমলালেবু
  • অ্যাভোকাডো
  • ফোলেটসমৃদ্ধ সিরিয়াল

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা যেতে পারে।

২. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

প্রোটিন শিশুর টিস্যু, পেশি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রোটিনের ভালো উৎস:

  • ডিম
  • চর্বিহীন মুরগির মাংস
  • কম পারদযুক্ত মাছ
  • পনির
  • টোফু
  • ডাল ও শিমজাতীয় খাবার
  • দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার

৩. গোটা শস্য (Whole Grains)

হোল হুইট, ওটস, ব্রাউন রাইস, মিলেট ও কিনোয়ার মতো গোটা শস্য শরীরকে শক্তি ও খাদ্যআঁশ (ফাইবার) সরবরাহ করে। এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক।

৪. ফল ও শাকসবজি

  • বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি থেকে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার পাওয়া যায়।
  • উপকারী খাবারের মধ্যে রয়েছে:
  • লেবুজাতীয় ফল
  • বেরি
  • কলা
  • গাজর
  • মিষ্টি আলু
  • সবুজ পাতাযুক্ত শাক

৫. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি

ক্যালসিয়াম শিশুর হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়তা করে এবং মায়ের হাড়ও সুস্থ রাখে। ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।

ভালো উৎস:

  • দুধ
  • দই
  • পনির
  • তিল
  • ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার

৬. পর্যাপ্ত পানি পান

চিকিৎসকের ভিন্ন নির্দেশনা না থাকলে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডাবের পানি, স্যুপ, ঘোল ও প্রাকৃতিক ফলের রসও শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে বমি বমি ভাব থাকলে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় কোনো ধরনের খাদ্যতালিকা পরিবর্তন বা ভিটামিন–মিনারেল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।