ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার
দেশের সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতারা পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বা রিজার্ভ ফরেস্টের নামে উচ্ছেদ বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে অর্থ পাচার না হলে আপনাদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করছে।”
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
দেশের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশে এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। গত ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। তা হলে আজকের অনেক সংকট তৈরি হতো না।”
তিনি আরও বলেন, “আগে উন্নয়নের অনেক গল্প শুনতাম। কিন্তু সেই উন্নয়ন কোথায়? এখন সব চাপ এসে পড়েছে আমাদের সরকারের ওপর। জনগণের প্রত্যাশা অনেক, আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছি।”
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এ দুটি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার তা পুনর্গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করে। এখন আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়নি।”
প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর কমানোর উদ্যোগের বিষয়েও বক্তব্যে তুলে ধরেন।





