বৈষম্য বিরোধী মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের অব্যাহতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিল পিবিআই

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৭ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একাধিক মামলার তদন্ত বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সব মামলা তারা আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সাথে তদন্ত করছে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে।

পিবিআই জানায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া ১৭টি জিআর মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৬৭টি সিআর মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সম্প্রতি ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলার (মামলা নং ০১, তারিখ ০৩/০৯/২০২৪) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। অভিযোগপত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়।

পিবিআই জানায়, মামলার বাদী শরিফ (৩৭) অভিযোগ করেন যে তার ভাই হিসেবে উল্লেখিত ভিকটিম সাহেদ আলী (২৭) ৪ আগস্ট ২০২৪ সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার মিনা বাজার সংলগ্ন স্থানে হামলার শিকার হন। অভিযোগে আরও ৯ জন আহত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তাদের ঠিকানাগুলো অসম্পূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন: জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শিক্ষামন্ত্রী

তদন্তে গিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা ভিকটিমের উল্লিখিত ঠিকানায় কেউ বসবাস করেন না বলে জানতে পারেন। এমনকি বাদীর সঙ্গে ভিকটিম সাহেদ আলীর পারিবারিক সম্পর্কের দাবিও অসত্য প্রমাণিত হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, ভিকটিমের এনআইডি ভুয়া, এবং উল্লিখিত নম্বর রেজিস্ট্রেশন নেই।

ভিকটিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখিত সীমান্ত স্কয়ার থেকেও তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তারা ওই নামগুলোর শিক্ষার্থী শনাক্ত করতে পারেননি।

পিবিআই আরও জানায়, বারবার নোটিশ প্রদান ও সরাসরি যোগাযোগের পরও বাদী কোনো ভিকটিমকে হাজির করতে ব্যর্থ হন এবং সঠিক ঠিকানাও সরবরাহ করেননি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ও প্রত্যক্ষদর্শী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়— উল্লিখিত তারিখ ও সময়ে সেখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

সব মিলিয়ে, তদন্তে মামলাটিকে ‘তথ্যগত ভুল’ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।