পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ন, ১৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৩ অপরাহ্ন, ১৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকেরা। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ—এমন পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রোববার জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত এক অনলাইন মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং দেশের সব জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন: ডিজিটাল ক্ষমতায়নে জোর দিতে হবে: ক্র্যাবের ইফতার মাহফিলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাননি গ্রাহকেরা। পরিবহন চালক ও সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কোথাও আবার সরবরাহ না থাকায় পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে পরিবহন খাতসহ নিত্যদিনের চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট যেন না বাড়ে—সরকার সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তাই জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিপণনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: পাঁচ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন তেল ডিপোর প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুত যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়া এবং ডিপো থেকে পেট্রল পাম্পে বরাদ্দ করা জ্বালানি যথাসময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি পেট্রল পাম্প ডিলার, এজেন্সি ডিলার, প্যাকড পয়েন্ট ডিলার ও ডিরেক্ট কাস্টমারদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো পেট্রল পাম্প বন্ধ থাকলে কেন বন্ধ—তার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করে ডিপোর সঙ্গে সরবরাহের হিসাব মিলিয়ে দেখার নির্দেশও দেন তিনি।

এ ছাড়া অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত বন্ধ করা, তেলের ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি তেলের পাচার প্রতিরোধ এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কয়েকটি নির্দেশনা বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান তিনি। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—শপিং মল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাইরের সব ধরনের আলোকসজ্জা বাতি বন্ধ রাখা, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং দোকান বন্ধের পর সাইনবোর্ডের আলো নিভিয়ে রাখা।

এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা কামনা করেন। সংগঠনের নেতারা জানান, পারস্পরিক আলোচনা ও সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থায় দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে চলমান জ্বালানি সরবরাহ সংকট ও গ্রাহক ভোগান্তি দ্রুত কমে আসতে পারে।