‘আমি গর্বিত এক বিপ্লবীর মা’, রাকসু জিএস আম্মারকে নিয়ে মায়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৪ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের সংগ্রামী জীবন, রাজনৈতিক নির্যাতন ও পারিবারিক ত্যাগের বর্ণনা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার মা রোকেয়া খানম। নিজেকে ‘গর্বিত এক বিপ্লবীর মা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি গত ১৭ বছরে পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি গত বছরের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। রোকেয়া খানম লেখেন, “১৫ই জুলাই পর্যন্ত সালাহউদ্দিনকে নিয়ে আমার অনেক বেশি চিন্তা হতো। যেদিন আবু সাঈদ শাহাদাত বরণ করলেন, সেদিনই আমি আমার একমাত্র ছেলেকে দেশের মানুষের জন্য দিয়ে দিয়েছি।”

আরও পড়ুন: ৩ মন্ত্রীকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার সন্তানকে কেউ ঘৃণা করলে সেটা দলের জন্য ঘৃণা করে, আর তাকে ভালোবাসলে দেশের জন্য ভালোবাসে।”

পরিবারের ওপর রাজনৈতিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন, “আমার আপন ভাইকে বিএনপি করার কারণে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটাতে দেখেছি। আমার স্বামীকে জামায়াত সমর্থনের কারণে কোমরে দড়ি বেঁধে টানতে টানতে নিয়ে যেতে দেখেছি, যার প্রভাব থেকে তিনি আর সুস্থ হতে পারেননি।”

আরও পড়ুন: ঢাকায় প্রথম সফরেই ইতিবাচক বার্তা দিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

সালাহউদ্দিন আম্মারের শৈশব ও সংগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০১৮ সালে তাকে একরকম পরিস্থিতির কারণে আমার কাছ থেকে দূরে পাঠাতে হয়েছিল। অনেকেই প্রশ্ন করেন, ২০২৪-এর আগে কোথায় ছিল সে—কিন্তু তার কৈশোর কেড়ে নিয়েছে ফ্যাসিস্ট লীগ।”

তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তাকে ও তার স্বামীকে ঘরবন্দী করে রাখা হয়েছিল এবং নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল ছেলেকে ফিরিয়ে আনার জন্য।

নিরাপত্তার চেয়ে ইতিহাসকে সাক্ষী রাখতেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি লেখেন, “প্রয়োজন হলে জিডি করব—নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং ইতিহাসের সাক্ষী রাখার জন্য।”

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে রোকেয়া খানম বলেন, “যেই ক্ষমতায় আসুক, সালাহউদ্দিন তাদের ক্ষমতাকে প্রশ্ন করবে—এটাই তার পরিচয়।”

সবশেষে তিনি ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রাজনীতি করুন, এটা সবার অধিকার। তবে সব দল-মত-আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে, যাতে শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।”

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।