জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি, ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের বক্তব্য
“জাতীয়তাবাদীর আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি” এই বক্তব্যটি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের ব্যক্তিগত আদর্শিক অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, কিছু মানুষ বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ অনুধাবন না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, বিরূপ ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন।
প্রথমেই বুঝতে হবে— “জাতীয়তাবাদ” এবং “জাতীয়তাবাদী দল” এক বিষয় নয়। জাতীয়তাবাদ একটি আদর্শ, একটি দেশপ্রেমিক চেতনা; আর রাজনৈতিক দল হলো সেই আদর্শকে ধারণকারী একটি সংগঠন। ভাষাগত ও ভাবগত এই পার্থক্য না বুঝে একজন সম্মানিত কর্মকর্তাকে “জাতীয়তাবাদী পুলিশ” বলে কটাক্ষ করা কোনো সুস্থ বিবেকের পরিচয় হতে পারে না।
আরও পড়ুন: আর্থিক খাতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না: অর্থমন্ত্রী
গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, তেজগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায়, যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক তার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, কষ্ট ও অভিজ্ঞতার কিছু আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা ছিল না; বরং একজন মানুষের হৃদয়ে জমে থাকা না বলা বেদনার বহিঃপ্রকাশ ছিল।
তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও পেশাগতভাবে নানা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই পদে বছরের পর বছর আটকে রাখা, প্রমোশনের ফাইল চাপা দিয়ে রাখা, দূর-দূরান্তে পোস্টিং এবং মানসিক চাপ—এসব তিনি নীরবে সহ্য করেছেন। একজন মানুষের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে পারে, ছাত্রজীবনে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাও কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু শুধুমাত্র মতাদর্শের কারণে একজন কর্মকর্তার জীবনকে এত দীর্ঘ সময় ধরে সংকুচিত করে রাখা সত্যিই বেদনাদায়ক।
আরও পড়ুন: সৌদি পৌঁছেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী
মানুষের আবেগকে বিদ্রূপ নয়, মানবিক দৃষ্টিতে দেখা উচিত। কারণ কিছু কথা থাকে, যা মুখ দিয়ে নয়—দীর্ঘদিনের নীরব কষ্টের গভীরতা থেকে বেরিয়ে আসে। তাই মন্তব্য করার আগে শব্দের অর্থ বুঝতে হবে, সত্য উপলব্ধি করতে হবে এবং একজন মানুষের জীবনের ত্যাগ ও বেদনার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।কারণ না বুঝে করা একটি কটূক্তি কখনো কখনো একজন মানুষের দীর্ঘ জীবনের ত্যাগ, কষ্ট ও সম্মানকে আহত করে দেয়।





