দোহাটেক নিউমিডিয়া স্বচ্ছতা ও সাফল্যের সঙ্গে ই-জিপি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ন, ১৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:০৬ পূর্বাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দোহাটেক নিউমিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ই-জিপি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (সাবেক সিপিটিইউ)-তে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সিপিটিইউ ওয়েবসাইট এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (প্রমিস) ডেভেলপমেন্টের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে।

এই কাজের সফল অভিজ্ঞতা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ সিদ্ধান্তে ২০০৭ সালে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের জন্য সহযোগী পরামর্শক হিসেবে দোহাটেক নিউমিডিয়াকে মনোনীত করা হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভুটান ও নেপালের ই-জিপি সিস্টেমের উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব লাভ করে এবং ২০১৭ সাল থেকে দেশ দুটিতে সফলভাবে ই-জিপি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ধানমণ্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন এবং এসটিপি-সংক্রান্ত বৈঠক

বাংলাদেশ সরকার ই-জিপি সিস্টেমের পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তাবলি, বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা এবং প্রাসঙ্গিক যোগ্যতার ভিত্তিতেই দোহাটেক নিউমিডিয়াকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগ প্রদান করে। এ ক্ষেত্রে সকল প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ তত্ত্বাবধানে ই-জিপি সিস্টেমের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য পরামর্শক বা সরবরাহকারী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

তবে সম্প্রতি দোহাটেক নিউমিডিয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর এ কে এম সামসুদ্দোহাকে ঘিরে একটি মহল ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মূল উদ্দেশ্য দোহাটেক নিউমিডিয়া এবং এর প্রোপাইটরের সুনাম ক্ষুণ্ন করা।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এ কে এম সামসুদ্দোহা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। সামসুদ্দোহা হলেন ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর স্ত্রীর আপন ভাই। প্রোপাইটর সামসুদ্দোহা মনে করেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে একটি মহল দোহাটেক নিউমিডিয়া সম্পর্কে অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

এদিকে, বিপিপিএ-এর স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপিপিএ পরিচালিত ই-জিপি সিস্টেমের কার্যক্রম বাংলাদেশে বছরে আনুমানিক ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তন (আরওআই) নিশ্চিত করেছে।

এ ছাড়া বিপিপিএ-এর ক্রয়সংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রম যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই (সিআইপিএস)-এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, যা সরকারি কর্মকর্তাদের কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিপিপিএ-এর সকল ক্রয় কার্যক্রম বিশ্বব্যাংক অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং প্রজেক্ট অ্যাপ্রেইজাল ডকুমেন্ট (প্যাড)-এর মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়।

জাতীয় পর্যায়ের সকল ক্রয় বিজ্ঞপ্তি বিপিপিএ-এর ওয়েবসাইট—ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ ডট বিপিপিএ ডট গভ ডট বিডি—এ উন্মুক্তভাবে প্রকাশ করা হয়, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দরদাতাদের অংশগ্রহণের সুযোগও সৃষ্টি করছে।