সঙ্ঘবদ্ধ দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, পদোন্নতিতে আর্থিক চুক্তি নিয়ে প্রতারণা

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ন, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, ১৯ মে ২০২৬
ছবিঃ এআই
ছবিঃ এআই

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বড় বড় ঠিকাদারি কাজ ও স্পর্শকাতর দেশে-বিদেশি সরকারি সিদ্ধান্ত পক্ষে করাতে একধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের আবির্ভাব ঘটেছে। তদবির বাণিজ্যের এই প্রতারণার সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রের জড়িত থাকার খোঁজ পাওয়া গেছে। দেশে বিদেশি প্রতারক চক্রের এইসব উচ্চ পর্যায়ের তদবির বাণিজ্যে রাষ্ট্রের ভিআইপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি সচিব, ডিজি, বিভিন্ন সংস্থার চেয়ারম্যান ও ডিসি-এসপি নিয়োগ বিষয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন-সংক্রান্ত তদবিরবাজদের সঙ্গে চুক্তিপত্রের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। সামাজিক মাধ্যমে আসা ঘটনাগুলোকে প্রতারণা হিসেবেই দেখছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের পছন্দের কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও ওএসডি-সংযুক্ত বাধ্যতামূলক অবসর দ্রুতগতিতে চলতে থাকে। এর মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন লেবাসে তৈরি হওয়া তদবির পার্টি। নতুন সরকার ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়ে তদবির পার্টি প্রশাসনের অস্থিরতা কাজে লাগিয়ে নেমে পড়ে প্রতারণা বাণিজ্যে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ পাওয়া রিয়াজুল ইসলাম ও ফেনী জেলার পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ পাওয়া মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার স্ট্যাম্পে আর্থিক চুক্তি করে পোস্টিং পাওয়ার অভিযোগ এসেছে। আর্থিক লেনদেনে পোস্টিংয়ের অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও নীলফামারী জেলায় পোস্টিং পাওয়া স্বৈরাচার সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী রাসেলের ঘনিষ্ঠ ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে উঠে এসেছে এক বিচারপতির স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার ভাইকে পুলিশ সুপার পদে পোস্টিংয়ের জন্য পনেরো কোটি টাকা চুক্তির অভিযোগ। আরেক জেলার জেলা প্রশাসক পদে কোটি টাকার চুক্তি করার অভিযোগও রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের চুক্তির কপি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে একের পর এক আর্থিক লেনদেনের লিখিত চুক্তি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা অনুসন্ধানে নেমে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে চুক্তির কাগজপত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপদেষ্টা নিয়োগ থেকে শুরু করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির লিখিত চুক্তি ও চেক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম আসে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়।