অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১:০২ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্টসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, গভীর শোক প্রধানমন্ত্রীর তারিক রহমানের

বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি (মেট্রোরেল) প্রকল্পসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাপানের আর্থিক সহায়তা ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও জানানো হয়।

এ সময় বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

জাপানি প্রতিনিধি দল বৈঠকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্যাট্রোল বোট প্রদান করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গেও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎ শেষে জাপানি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।