জামিনে বেরিয়েই পুলিশ সোর্সকে হত্যা, গুরুতর অভিযোগ ভাষানটেক ওসির বিরুদ্ধে
অস্ত্রসহ যৌথ বাহিনীর আটকের পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়েই ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সোর্স কাউসার মোল্লাকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের পর ভাষানটেক থানায় নিহতের স্ত্রী মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে প্রথমে অনিহার করে। পরবর্তীতে কাউকে আসামি না করে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করে। নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ মৃত্যুর আগে কাউসার মোল্লা হত্যাকারীদের নাম বলে যাওয়ার পরেও পুলিশ সুমনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি।
রাজধানীর মিরপুরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভাষানটেক থানাধীন ৩ নম্বর ধামালকোট এলাকার সোবহান রোডের মাথায় কাউসার মোল্লাকে একদল লোক পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর ভোরে মৃত্যুবরণ করে। মৃত্যুর আগে কর্তব্যরত চিকিৎসক উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও নিহত স্বজনদের নিকট তার উপর হামলার বিবরণ ও হত্যাকারীদের নাম বলে দেয়। নিহত কাউসার মোল্লা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশ সোর্স হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সোমা ভাষানটেক থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সোর্স হিসাবে কাজ করতেন কাউসার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি ভাষানটেক থানা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সুমনকে বিদেশি অস্ত্রসহ ধরিয়ে দেন। বেশ কিছু দিন কারাভোগ করে গত বুধবার সুমন কারাগার থেকে জামিনে বের হন। স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে সুমনের ইন্ধনে কাউসারকে ছিনতাইকারী সাজিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে তার লোকজন। সুমনকে রাগে ও ক্ষোভে বলতে শোনা যায়, ‘তোর কারণেই আমাকে সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতন ও অস্ত্র মামলায় জেল খাটতে হয়েছে। কড়ায়গণ্ডায় প্রতিশোধ নেব।’
আরও পড়ুন: ৯৬ সাল থেকেই মোজাফফরের দেশে অবস্থান
এদিকে পুলিশ মামলাটি নিয়ে রহস্যজনক আচরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের পর কাউসারের স্ত্রী সোমা অভিযোগ করেন, ভাষানটেক থানায় জড়িতদের নাম দিলেও অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। সোমার দাবি, ‘আমার স্বামী হাসপাতালে মারা যাওয়ার আগে আসামিদের নাম বলে গেছে। হত্যাকাণ্ডে সুমন, রাজু, শরীফ, সাইফুল, ওহিদুল, ইন্দ্রজিত, ইফাত, ইমরান, সাদ্দাম, জুয়েল ও আব্দুল জড়িত। এ ব্যাপারে জানতে সুমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, মামলা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী সোনার অভিযোগ ভাষানটেক থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা মিলে সন্ত্রাসীদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের আসামি না করে বাদীর নিকট থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছে। পুলিশ তাদেরকে মামলা করতে করে অসহযোগিতা করছে।





