কাপাসিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় 'জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬' পালিত

Sanchoy Biswas
এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৪ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় "জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬" পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ঐতিহাসিক জুলাইয়ে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দেশে সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় কাপাসিয়ায়ও দিবসটি পালিত হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাফিজুল হক সভাপতিত্ব করেন।

আরও পড়ুন: মধ্যনগরে ৮২ গ্রামের সম্মিলিতভাবে রথযাত্রা উৎসব পালিত

বিআরডিবি কর্মকর্তা দিলারা আক্তার মনি ফকিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) যোবায়ের আহমেদ, জেলা বিএনপির নেতা ও কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আফজাল হোসাইন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খান, গাজীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মাওলানা শেফাউল হক, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলাম রবি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরান হোসেন শিশির, সমন্বয়ক মোদাসির ইসলাম খান, জুলাই শহিদ জাকির হোসেনের স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম, জুলাই যোদ্ধা প্রভাষক শামীমা চৌধুরী সিমুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন উপজেলা কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। পরে জুলাই শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহত যোদ্ধাদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহিদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলনই ছিল না; এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ আমাদের সরকার শহিদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহিদদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য কেবল ইতিহাসের গৌরব নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহিদ হয়েছেন, সেইসব অকুতোভয় শহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি—এ লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।