আন্তর্জাতিক বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৩ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণবাজারেও।

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩০ ডলার ৪০ সেন্ট।

আরও পড়ুন: বাজেট ইতিবাচক; ধীরে হলেও চলতি অর্থবছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: এডিবি’র পূর্বাভাস

এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় ইতিবাচক আসায় স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১০০ ডলার ৪৯ সেন্টে পৌঁছেছিল।

তবে বুধবার পরিস্থিতি বদলে যায়। টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দাম বাড়তে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা এবং নতুন হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, তবে বাড়তি চাপ সীমিত

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির তথ্যের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও গভীর নজর রাখছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে, যা স্বর্ণের বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হলে সুদবিহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির প্রবণতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অর্থনৈতিক তথ্য প্রয়োজন। ফলে বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযোজক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশের দিকে, যা ভবিষ্যতের মুদ্রানীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে।

অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ ডলার ১৮ সেন্ট হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৮ ডলার ৬ সেন্টে নেমেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩১১ ডলার ৮৪ সেন্টে পৌঁছেছে।