গণমাধ্যম যেন তোষামোদির সংস্কৃতিতে না জড়ায়: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণমাধ্যম যেন তোষামোদির সংস্কৃতিতে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি বলেন, জাতিগতভাবে তোষামোদির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার বিষয়টি উদ্বেগজনক এবং গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এমন সংস্কৃতি কাম্য নয়।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এ ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান।
আরও পড়ুন: ৩০০ কোট, ৫৩২ টাইসহ সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাটে বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার: দুদকের অভিযান
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের সামনে নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে এবং তা যেন বিস্মৃত না হয়, সেজন্য ইতিহাস সংরক্ষণ জরুরি।
আরও পড়ুন: প্রক্সি দিয়ে সরকারি চাকরি পেতে গিয়ে ধরা ৪ জন, জালিয়াতি ফাঁস
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে এবং ভিন্নমত দমনে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পথ অনুসরণ করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করে এসেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং পরে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন আশা সৃষ্টি করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অল্প সময়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের লুটপাট, ধ্বংস ও অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়; এটি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই দলের লক্ষ্য। ৩১ দফা, জুলাই সনদ এবং জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নির্বাচিত সরকার নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়টি স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনের পাশাপাশি এখন আলোচনার রাজনীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংসদীয় কমিটিতে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা করা উচিত। জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে আলোচনার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং নানা হতাশার মধ্যেও মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারাননি।
বিএনপি মহাসচিবের দাবি, দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাবন্দি হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। শহীদ ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা আরও কার্যকর ও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে অধিকার আদায়ে কাউকে আর প্রাণ দিতে হবে না। মতভেদ থাকলেও সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন আনতে সক্ষম এবং সেই বিশ্বাস নিয়েই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।





