তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস, স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ

Sanchoy Biswas
বাসস
প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫০ পূর্বাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস।

মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।

আরও পড়ুন: অধ্যাপক ইউনূসকে হয়রানির প্রতিবাদে সাবেক ১২ জন উপদেষ্টার বিবৃতি

এ সময় তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে হয়রানির অভিযোগ, সরকারের তীব্র নিন্দা

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন আরও জানান, বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের এখনই উপযুক্ত সময়। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদীব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানান।

এ সময় ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বলেছে, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এ সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

পাশাপাশি কৃষিখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান শুর্দ শুর্দসমার।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমীন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।