নির্বাচন কমিশনের ‘নির্লিপ্ত ভূমিকা’ নিয়ে নজরুল ইসলাম খানের প্রশ্ন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪০ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের ‘নির্লিপ্ত ও নিশ্চুপ’ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নজরুল ইসলাম খান। বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এই প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন চাই যথাসময়ে… ১২ ফেব্রুয়ারিতেই এবং আমরা এটাও চাই যে সব রাজনৈতিক দল সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কোনো কাজে কোনো কনফিউশন যাতে না হয় সেজন্য আমাদের চেয়ারম্যান তার উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করেছেন। আমরা যেখানে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এত উদ্যোগী, সেখানে আমরা তো আশা করতেই পারি যে অন্য সবাই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তি-শৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী পরিবেশ অটুট রাখার জন্য কাজ করবেন।”

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

“দুর্ভাগ্য আমাদের সেটা হচ্ছে না। আপনাদের ছবিগুলো (দেখানো আলোকচিত্র) দেখতে পাবেন যে আমাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের প্রধানরা পর্যন্ত এমন বক্তব্য রাখছেন, এমন সব ব্যানার নিয়ে কথা বলছেন, যেগুলো স্পষ্টতই নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা সাধারণ প্রার্থীদের প্রতি যেমন কঠোর আইন পালন করার ব্যাপারে আগ্রহী, সকলের ব্যাপারেই তেমনি আইনানুগ আচরণ করবেন… আমরা নির্বাচন কমিশনে বলে এসেছি, এখন আপনাদের মাধ্যমে বলছি—নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা কিংবা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিশ্চুপতা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করছে। এটা অনুচিত বলে আমরা মনে করি এবং আমরা আশা করি তারা তাদের আচরণের পরিবর্তন আনবেন।”

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে যে তারা নিজেদের দায়িত্বেই এসব কাজ থেকে বিরত থাকবেন।”

আরও পড়ুন: তারেক রহমানকে কার্টুনিস্ট উদয়ের নতুন কার্টুন উপহার

“আমরা আশা করব বাংলাদেশে আরো যারা রাজনৈতিক দল আছেন তারাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কোনো বাধার কারণ হবেন না। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী কর্মকর্তাবৃন্দ—যার যা দায়িত্ব, তার তা ভূমিকা, যার যে ক্ষমতা—সেটা তারা প্রয়োগ করবেন বলে আমরা আশা করি।”

‘সবাইকে নিয়ে নির্বাচন চাই’

তিনি বলেন, “আমরা আপনাদেরকে সাক্ষী রেখে বলতে চাই যে আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা… এর যদি কৃতিত্ব কেউ দাবি করতে পারে সেটা বিএনপি। আমরা একদলীয় সৈন্য শাসনের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি, আমরা রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে দেশকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে পরিণত করেছি, আমরা এক-এগারোর সরকারকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারে বাধ্য করেছি। এবারও প্রায় ১৭/১৮ বছর ধরে আমরা অবিরাম লড়াই করেছি। আমাদের বহু সাথী গৃহহীন হয়েছেন, খুন হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত হয়েছেন। আমরা সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। সেজন্য আমরা আমাদের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছি।”

“আপনাদের মাধ্যমে আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই—দেশের মানুষ যারা বহু বছর ভোট দিতে পারেনি, তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, তারা যেন নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে, শান্তি এবং শৃঙ্খলার মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদের ভূমিকা আমরা পালন করছি। আমরা তাদের সমর্থন চাই, তাদের সহযোগিতায় আমাদের কর্মসূচি পালনের ইচ্ছা রাখি।”

‘নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই’

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বলেন, “আমরা বারবার বলে এসেছি যে আমরা নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই—সবার জন্য সমান সুযোগ। দল বড় হোক বা ছোট হোক, ব্যক্তি ক্ষমতাবান হোন বা না হোন, পদবীধারী হোন বা সাধারণ নাগরিক হোন—সবার জন্য নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার।”

“নির্বাচন কমিশন বিএনপির বেশ কিছু প্রার্থীকে হয়তো শোকজ করেছে, কারণ কোনো দোয়া মাহফিলে বা অন্য কোনো সভায় কেউ হয়তো বুঝতে না পেরে বলেছেন—ধানের শীষে ভোট দিন। তিনি প্রার্থী নন, দলের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাও নন। আমাদের একজন প্রার্থীর মেয়েও ফেসবুকে পোস্ট করায় তাকে এবং তার বাবাকে শোকজ করা হয়েছে। আমরা এটা মেনে নিতে পারি—যদি দেখি সবার জন্য একই আচরণ করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কিন্তু আপনারা দেখবেন—অন্য দলগুলোর সাধারণ প্রার্থী, উল্লেখযোগ্য নেতা, গুরুত্বপূর্ণ নেতা এমনকি প্রধান নেতারাও প্রকাশ্যে প্রচার করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চোখের সামনে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

তারেক রহমানের সফর স্থগিত প্রসঙ্গে

“আমাদের দলের চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফরে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন—যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তারপরও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে আমরা সেই সফর স্থগিত করেছি।”

পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে

ছাপানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “এটা স্পষ্ট উদ্দেশ্যমূলক। দ্রুত সংশোধন করা উচিত। প্রয়োজনে নতুন করে ছাপা উচিত।”

তিনি বলেন, “বাহরাইন ও ওমানের দুটি স্থানে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের ভিডিও আমরা পেয়েছি। ব্যালট পেপার হাতে নেওয়া বা দেখানো বেআইনি—এতে ভোটের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।”

‘এই ব্যালট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে’

তিনি বলেন, “এনআইডি, বিকাশ নম্বর, পোস্টাল ব্যালট—এসব নিয়ে যে ঘটনা ঘটছে—এগুলো অনৈতিকভাবে ভোট সংগ্রহের অপচেষ্টা। যারা যুক্ত তাদের শাস্তি দিতে হবে।”