মানুষ এখন অনেক সচেতন, মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী—যেখানে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে এবং কোনো ভয়ভীতির পরিবেশ থাকবে না। জনগণ স্বস্তির সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, এমন নির্বাচনই প্রত্যাশা করেন তারা।

তিনি বলেন, “মানুষ এখন অনেক সচেতন। মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কাছে তাদের অঙ্গীকার, বক্তব্য, চরিত্র ও কার্যক্রম নিয়ে যেতে হবে। জনগণ অতীত ও বর্তমান বিবেচনা করেই কাকে বিশ্বাস করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবে।”

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতের আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তা দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ জানালে তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা দলের কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করার এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, “এই নোংরা মব রাজনীতির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই এবং চাই, এটি এখানেই শেষ হোক।”

আরও পড়ুন: মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ধ্বংস হয়েছে এলাকা: মির্জা আব্বাস

৩০০ আসনের সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ওপর আস্থা রাখুন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন। ভোটারদের সহযোগিতা করা সব দলের প্রার্থীদের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার স্পষ্ট—দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে ফ্যাসিবাদের আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না। জামায়াত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটোতেই অংশ নেবে বলে জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি অতীতের সাড়ে ১৫ বছরের মতো করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জাগ্রত যুবসমাজ তা মেনে নেবে না। কারণ, পরিবর্তনের জন্য যুবসমাজ বুকের রক্ত দিয়েছে। জামায়াত সবসময় দেশবাসীর পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “‘তোমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’—এ ধরনের কৌশল জনগণ আর গ্রহণ করবে না। ভোটের মাধ্যমে ব্যালটেই এর জবাব দেওয়া হবে। তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও পরস্পর শ্রদ্ধাশীল অবস্থান থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।”

সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির দাবি করেন, মঙ্গলবার বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এমনকি নারী ও মা-বোনদের ওপরও হামলা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু একটি আসনে নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কমিশনকে তাদের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মসজিদের ভেতরে ঢুকে অপমান, মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও নারীদের ওপর হামলার ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব—সেই প্রশ্ন উঠে আসে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিজেদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত।

শেষে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মানবিক বাংলাদেশ, যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এবং মা-বোনদের নিরাপত্তার বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার জামায়াত দিয়েছে, তা নিয়েই তারা জনগণের সামনে থাকবে। তবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।