তালাক নোটিশ ও কথিত কাবিননামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৮ অপরাহ্ন, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এক নারীকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে তালাকের নোটিশ, কথিত কাবিননামা ও দেনমোহর পরিশোধের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। ওই নারীকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

স্ট্যাটাসে রনি দাবি করেন, স্ত্রী পরিচয় দেওয়া ওই নারী প্রথমে তাঁর অফিসে এবং পরে ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে তাঁকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পরে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অভিযোগও করেন।

আরও পড়ুন: তাসকিন এখন শাবনূরের পরিবারের বিশেষ অতিথি

অফিসে ওই নারীর উপস্থিতির বর্ণনা দিয়ে রনি জানান, পুলিশ তাঁর কাছে বিয়ের প্রমাণপত্র দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি। পরে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। তবে একপর্যায়ে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলে যান বলে দাবি করেন রনি।

এরপর ওই নারী ধানমন্ডিতে তাঁর বাসায় উপস্থিত হন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় অভিযোগ করার পর পুলিশ ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর দুই আত্মীয়ের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ডা. মাহমুদা মিতু মনোনয়ন প্রত্যাহার, জামায়াতের ফয়জুল হককে সমর্থন

গোলাম মাওলা রনি জানান, কাবিননামা পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি। আইনজীবীদের পরামর্শ ছিল, কাবিননামার যথার্থতা ও এর পেছনের ঘটনা আদালতে প্রমাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই আইনি জটিলতা এড়াতে কাবিন অনুযায়ী তালাক দেওয়া এবং ১০ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়।

রনি আরও দাবি করেন, তিনি শাহবাগ থানায় মামলা করেন, তালাকের নোটিশ পাঠান এবং কথিত কাবিননামায় উল্লেখিত ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও ওই নারীর পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করে তাঁর কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রনি তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই নারীর সাবেক স্বামীর সংসারে থাকা বিবাহযোগ্য মেয়ে ও কিশোর ছেলের কথা চিন্তা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনার শুরু থেকেই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন বিষয়টি জানতেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন রনি। তাঁর ভাষ্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনজনেরা সব সময় তাঁর পাশে ছিলেন।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইউটিউবার ইলিয়াস ও বনি আমিনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ওই নারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন।

রনি আরও দাবি করেন, আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর ও নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি ওই নারী তাঁর দাবিকৃত অর্থ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা পিছু হটেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এতদিন পর এনসিপির নেতারা কেন ওই নারীর প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং তাঁকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার কয়েকটি গণমাধ্যমে সাবেক নারী সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী ফারজানা আফরোজের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে রনি দাবি করেন, ওই নারী তাঁর স্ত্রী নন।

পরে নিজের ফেসবুক পেজে একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এর জবাবে ফারজানা আফরোজ তাঁদের বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারী শক্তি’র কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।