ত্রিশালে কালের সাক্ষী দুই শতাব্দীর পুরাতন বটগাছ
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের সাফখালী এলাকায় প্রায় দুই শতাব্দীর পুরাতন একটি বটগাছ দিব্যি দাঁড়িয়ে রয়েছে কালের সাক্ষী হিসেবে।
বটগাছটি দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে আসে মানুষ। এই পুরানো বটগাছটি ঝড় তুফানেও ক্ষতি করতে পারেনি। স্থানীয়রা বলছে বহু বছর আগে একবার প্রচন্ড ঝডড়ে এই গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে। তবে কত বছর আগে ঝড়ে ডালপালা ভেঙ্গে যায় তার কোন সঠিক উত্তর কেউ বলতে পারেনি।
আরও পড়ুন: ফতেহপুর জামশেদীয়া দরবার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন
এলাকার প্রবীণ বয়স্ক লোকদের মতে ষাট বছর ধরে এই বটগাছটি দেখে আসছে তারা । এখনও আগের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বলেন,বাপ দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এই গাছটি অনেক পুরানো। তার বয়স কমপক্ষে ২০০ বছর হবে।
আরও পড়ুন: গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ কাস্টমস কর্মীর মরদেহ ১৫ টুকরো, গ্রেপ্তার ২
সরেজমিনের দেখা গেছে, উক্ত জায়গায় সর্ব প্রথম একটি বট গাছ ছিল। ওই বটগাছের শোখর ও ডালপালা ওপর থেকে নিচে পড়ে পুনরায় গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখন ডালপালা ও শোখর অনেক বড় বড় বট গাছের সৃষ্টি হয়েছে। একটি গাছ অপর গাছকে জড়িয়ে ধরেছে। মূল বটগাছ থেকে শাখা প্রশাখার গাছগুলো বিশাল আকার রূপ ধারণ করেছে। শাখা প্রশাখার কমপক্ষে হলেও ২০ থেকে ২৫ টি গাছ রয়েছে। এই পুরাতন বটগাছটির ডালপালা বিশাল আকৃতির । তারা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছ।
গাছের পাশে লালশাহ নামে একটি মাজার ঘর রয়েছে। প্রতিবছর এখানে পুরুষ মাহফিল হয়। এখানে এসে লোকজন বট গাছটির নিচে দোয়া মানত করে থাকে। অনেকেই বলেছেন, একসময় এই বট গাছের পাতা ছিঁড়লে নাকি শরীরের জ্বর হতো। তারা আরও জানান এই গাছটি নিয়ে অনেক রকমের অলৌকিক ঘটনা রয়েছে যা পূর্ব পুরুষদের মুখোমুখি প্রচলিত ছিল।
যুগে যুগে কি রহস্যময় জিনিস দেখে আসছে মানুষ! তবে পুরনো জিনিস যা ঐতিহ্য বহন করে। ঐতিহ্যের অংশ হচ্ছে এই বটগাছ। ত্রিশালের দক্ষিণ এলাকার মানুষ প্রবীণ বটগাছটি ঘিরে তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, খোঁজ-খবর নিয়ে গাছটি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহন করব।





