খতনা করাতে হাসপাতালে গিয়ে সাত বছরের শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৭ অপরাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে খতনা করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় মোস্তফা রোহান (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতিকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই রাতের মধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার পর মঙ্গলবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন: বাউফলে সরকারি রাস্তা অবৈধ দখল করে দোকানঘর ও দ্বিতল ভবন নির্মাণ!

পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খতনা ও ছোট সার্জারি করার জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মা–বাবার সঙ্গে থাকা অবস্থায় মোস্তফা হাসপাতালের বেডে শুয়ে হাসিমুখে ছবি তুলেছিল। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে সার্জারি কক্ষে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের জানায় শিশুটিকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠাতে হবে। রাতেই সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

শিশুটির বাবা আবু মুসা অভিযোগ করে বলেন, “ছেলেটা হাসিখুশি ছিল। ক্ষুধার কথা বললেও চিকিৎসকের নির্দেশে তাকে কিছু খাওয়ানো হয়নি। অ্যানেসথেসিয়াতে ত্রুটির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

আরও পড়ুন: দর্শনা সীমান্তে স্বর্ণ পাচার রোধ: আড়াই কোটি টাকার বারসহ আটক ১

মোস্তফার মা সুমি আক্তার বলেন, “এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার ফল। আমরা সঠিক তদন্ত চাই।”

পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর শিশুটিকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ নামক জন্মগত ত্রুটি উল্লেখ করে খতনা ও ছোট সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের কথাও সেখানে লেখা ছিল।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “সাধারণত খতনার সময় স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়া ব্যবহৃত হয় এবং জটিলতার ঝুঁকি খুব কম থাকে। এই ঘটনায় আসলে কী ঘটেছে তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।”

এদিকে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছেন পরিবারটি।