নাসিরনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

Sanchoy Biswas
চন্দন কুমার দেব, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫১ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, জনমনে আতঙ্ক রয়েছে।

সোমবার বিকেলে ধরমন্ডল এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার জিতু মিয়া ও ফকির মিয়া গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয়ে একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশুটি লাইফ সাপোর্টে, টেকনাফ সীমান্তে কী ঘটছে?

সংঘর্ষ চলাকালে গুরুতর আহত হন জিতু মিয়া। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ধরমন্ডল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন: সীমান্তে গুলিবর্ষণে শিশুর মৃত্যু, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব

ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রশাসন সার্বিকভাবে নজর রাখছে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।