নরসিংদীতে রোজার শুরুতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ
প্রতিবারই রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে যায়। ইতোমধ্যে রোজার শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সেই পুরোনো চিত্র। নরসিংদীর বাজার গুলোতে বিভিন্ন পণ্যের সমহার পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে দাম। বেগুন, লেবু, কলা, শসা, কাঁচা মরিচ, খেজুর, দুধ, চিনি, ছোলা ও বিভিন্ন ধরনের ডালসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। আর এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণ রাখায়ই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জেলার সবচেয়ে বড়বাজার খ্যাত পরিচিত নরসিংদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে চাহিদার শীর্ষে থাকা ছোলা ও মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০ টাকা এবং মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা। রোজার আগে ৯৫ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনি এখন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছ। ইফতারের সময় খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। আর এই খেজুর নামক পণ্যকে পুঁজি করে খেজুরের দোকানে রীতিমতো আগুন। নিন্মমানের বস্তা খেজুর কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া মাঝারি মানের জিহাদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫০-৪০০ টাকা। যা আগে ছিল ২০০-২৫০ টাকা। দুই দিনের ব্যবধানে গরুর দুধ লিটারের ৫০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০, শসা প্রতিকেজি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি লেবু ২০০-২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেই বাজারে কলার সরবরাহ ঘাটতি দেখা গেছে। ১ কুড়ি চম্পা কলা (ছোট) ২০০ টাকা। যা কি-না গত ৩ দিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা কুড়ি এবং ভালমানের সাগর কলা কুড়ি ৫০০-৫৫০ টাকা ও সবরিকলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গণধোলাইয়ে নিহত ২
বোতলজাত বিভিন্ন ব্যান্ডের সয়াবিন তেল ৫ লিটার বিক্রি হচ্ছিল ৯৫৫-৯৮০ টাকা। পিয়াজ ২ দিনের ব্যবধানে বেড়ে বর্তমানে প্রতিকেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৮০০ টাকা, রুই ও কাতল মাছ (বড়) প্রতিকেজি ৪০০-৫০০ টাকা, বোয়াল প্রতিকেজি ৮০০-৯০০ টাকা, পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৮০০-৯০০ টাকা কেজি, প্যাঙ্গাস ২০০-২৫০ টাকা এবং চিংড়ি ১৫০০-১৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম চড়া। দুই মাস ধরে যে ব্রয়লার মুরগী ১৫০ টাকার কিছু বেশি ছিল সে ব্রয়লার মুরগী রমজান উপলক্ষে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সব ধরনের সবজি সহ অন্যান্য মসলার দামও বেড়েছে।
বাজার করতে আসা ফাহিম বলেন, রমজান এলেই দোকানীদের শুরু হয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও বাজারে এসে দেখা যায় ভিন্ন। বাজার মনিটরিং করতে ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর শুনে দোকানীরা পণ্যের দামের তালিকা ঝুলান। আবার ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজার থেকে চলে যান তখন তাদের সেই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে মধ্যবিত্তরা পড়েছে বিপাকে। চাই দ্রুত ও স্থানীয় সমাধান।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় জাতীয়তাবাদী অটোচালক দলের বিনিময় সভা
এবিষয়ে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ কেনাকাটা বেড়ে গেলে এটি খুচরা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে। আড়ত গুলোতে বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম একটু বেশি। কয়েকদিন গেলেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।





