শরীয়তপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে

Sanchoy Biswas
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫২ অপরাহ্ন, ১৩ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুরের নড়িয়ার মানাখান গ্রামে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার ভূমখারা ইউনিয়নের মানাখান এলাকার সেলিম হোসেনের (৫১) সঙ্গে একই এলাকার আল আমিন দেওয়ানের (৩৫) পরিবারে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে গেলে আদালত ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা কোনো ধরনের পরিবর্তন না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ আল আমিন দেওয়ান সম্প্রতি সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের তালিকার বিতর্ক নিরসনে কাজ করবে সরকার: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ভুক্তভোগী সেলিম হোসেন বলেন, “৯৪ নং মানাখান মৌজায় বিআরএস ৪৫৩ খতিয়ানে ৫১২ ও ৫০৯ নং দাগে আমার জমি রয়েছে। সেই জমিতে আমার একটি টিনের ঘর ছিল। ৩ মার্চ আল আমিন দেওয়ানের নেতৃত্বে আবু তাহের দেওয়ান (৬০), হৃদয় দেওয়ান (৩০) ও খাদিজা বেগম (৩০) মিলে আমাকে মারধর করে আমার নির্মিত ঘর জোর করে ভেঙে নিয়ে যায়। পরে আমি মামলা করি। ওই জমির ওপর আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১২ মার্চ সকালে জোরপূর্বক ওই জায়গায় আল আমিনগংরা ঘর নির্মাণ করছে।”

সেলিমের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক শ্রমিক এনে দ্রুত গতিতে ঘর নির্মাণ করছেন। এতে আদালতের আদেশ অবমাননা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে র‍্যাবের অভিযানে বিদেশী মদসহ গ্রেপ্তার ১

তবে আল আমিন দেওয়ান বলেন, “আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা আমরা পাইনি। তবে এই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ছিল। আমরা আদালত থেকে রায় পেয়েছি। তাই আমার জমিতে আমরা ঘর তুলছি।”

নড়িয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদ হোসেন বলেন, “ওই জমি নিয়ে সেলিম মামলা করেছেন। সেই মামলার তদন্ত করছি। তবে জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আদালত পুলিশকে এখনো কোন নির্দেশনা দেয়নি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি। যিনি আদালত থেকে রায় নিয়ে আসবেন, সেই ব্যক্তি জমি ভোগ করবেন।”