দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মারা গেছেন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের দৃষ্টিহীন মুয়াজ্জিন মোহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।

আরও পড়ুন: একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, কাপাসিয়ায় আনন্দের জোয়ার

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৯ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দুই চোখের দৃষ্টি হারান। এরপরও থেমে থাকেননি তিনি। পরিবারের সহায়তায় বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ বেঁধে ও দড়ি টেনে একটি পথ তৈরি করেন। সেই দড়ি ও বাঁশ ধরে তিনি প্রতিদিন মসজিদে যেতেন এবং মাইক ব্যবহার করে আজান দিতেন। পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ইমামতির দায়িত্বও পালন করতেন।

২০১১ সালে বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন আব্দুর রহমান। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর থেকেই তিনি ওই মসজিদে অবৈতনিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা

মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, ১০ মেয়ে ও ৯ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার ছয় সন্তান পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন।

গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম। দৃষ্টিহীন হয়েও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে তার এই অবিচলতা স্থানীয়দের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে।