শেরপুর-৩-এ ৪০%, বগুড়া-৬-এ ৩০% ভোট

'জামায়াতের অনিয়মের অভিযোগে শেরপুর-৩ আসনের সার্বিক রিপোর্ট তলব করেছে ইসি '

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:১৮ অপরাহ্ন, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪০% এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে ৩০% ভোট। ভোটগ্রহণের দিনই শেরপুর-৩ আসনে জাল ভোট, প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিবেদন না এলে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আক্তার আহমেদ বলেন, “শেরপুরের ডিসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছি। প্রতিবেদন না এলে সেখানে কী ঘটেছে তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও জানান, “জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বিকেল পৌনে চারটায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।”

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

শেরপুর-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট ও কারচুপি হয়েছে এবং তার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

প্রার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী: —

আরও পড়ুন: নিকলীতে পাগলা কুকুরের তাণ্ডব: শিশুসহ আহত ৫

  • ঝগড়াচর কেন্দ্রে জাল ভোটার আটক করলেও পরবর্তীতে পুনরায় জাল ভোটের ঘটনা ঘটে।
  • পুরাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি এজেন্ট ব্যালটে নিজ হাতে সিল মারছিল।
  • উত্তর ত্রিবন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়।
  • ঘরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।
  • আয়নাপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার কারণে এজেন্টদের ওপর হামলা হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন।
  • মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই আমি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি।”

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি এবং ভোটারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তবে কমিশন এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। প্রশাসনিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোটাররা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করছেন।

শেরপুর-৩ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মধ্যেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশন প্রশাসনিক প্রতিবেদনের ওপর নজর রাখছে। রিপোর্ট পর্যালোচনার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।