নবীনগর ভূমি অফিসে ঘুষ কেলেঙ্কারি: সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে অবরুদ্ধ ৩ সাংবাদিক

Sanchoy Biswas
ফরিদ আহমেদ, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৯ অপরাহ্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আজ (১৬/৪/২৬) জমির খারিজ (নামজারি) করতে আসা আলমাস নামের এক ব্যবসায়ীর নিকট ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সাংবাদিক পিয়াল হাসান রিয়াজ, মমিনুল হক রুবেল ও মো. অলিউল্লাহকে তালাবদ্ধ করে রাখেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামসুদ্দোহা।

জানা যায়— আলমাস নামের নবীনগর বাজারের ব্যবসায়ী তাঁর জমির নামজারি করতে নবীনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শামসুদ্দোহা ও অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান তাঁর নিকট ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কয়েকজন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করার চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নায়েব শামসুদ্দোহা ও হাবিবুর রহমান।

আরও পড়ুন: কসবায় ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিলেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

এক পর্যায়ে তাঁরা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করলে ৩ জন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে অফিসের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে প্রধান ফটকে তালা মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তা/কর্মচারী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিয়াল হাসান রিয়াজ বলেন— "নবীনগর বাজারের আলমাস মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ী সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামসুদ্দোহার কাছে একটি জমির খারিজ করতে এলে, তিনি (সামসুদ্দোহা) ৪০ হাজার টাকা নাকি ঘুষ চান। এ খবর শুনে আমরা তিন সাংবাদিক বিষয়টি জানতে এলে ওই অফিসার ও তার লোকজন প্রথমে আমাদের একজনের মোবাইল কেড়ে নেন। পরে অফিসের ভেতর আমাদেরকে 'তালাবদ্ধ' রেখে ওরা চলে যান। ফলে ভেতরে আমরা এক ঘণ্টা আটক থাকি।"

আরও পড়ুন: বর্জ্য নিষ্কাশনে নরসিংদী পৌরসভায় যুক্ত হলো ড্রাম ট্রাক

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা সামসুদ্দোহার সাথে মুঠোফোনে পরিচয় দিয়ে কথা বললে তিনি রাগত স্বরে বলেন— "আমি কোনো সাংবাদিক টাংবাদিকের সাথে কথা বলি না"— বলেই ফোনটি রেখে দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্বাবধানে তালা খুলে সাংবাদিকদের মুক্ত করা হয়। নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।