ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়: ৩৫ ট্রান্সফরমার নষ্ট, অন্ধকারে ২৭ হাজার গ্রাহক
বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে কুমিল্লাজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ৩৫টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের আঘাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং প্রায় ৫৫০টি মিটার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ২৫টিরও বেশি স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ পড়ে এবং ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে বিস্ফোরক মামলায় একই দিনে দুই ইউপি চেয়ারম্যান আটক
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন আদর্শ সদর উপজেলা, সদর দক্ষিণ উপজেলা, লালমাই উপজেলা, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, বুড়িচং উপজেলা ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা। টানা দুই দিনের কালবৈশাখীতে এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানান, “রোববারের পর আমরা সব সংযোগ চালু করেছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবারের ঝড়ে আবারও সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ পুনরুদ্ধারে আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।”
আরও পড়ুন: মেঘনায় নিখোঁজ সেই জেলের মরদেহ উদ্ধার, বিয়ের দুই সপ্তাহেই সব শেষ
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন চান্দিনা উপজেলা, দেবিদ্বার উপজেলা, মুরাদনগর উপজেলা ও বরুড়া উপজেলা এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় টানা প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনেক কেন্দ্রেই শিক্ষার্থীদের মোমবাতি বা চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে। সেগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন সহজ হয়।
এদিকে কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা মেরামত কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, কুমিল্লার চারটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে। পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নিরূপণাধীন রয়েছে।
তবে আশার কথা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীরা।





