বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা, হবে ১০হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৪ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়াবাসীকে দেয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হতে হচ্ছে।গত (৭ই মে) বৃহস্পতিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীগণ আন্তর্জাতিক বিমান ঘাঁটিসহ বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। 

সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান শেষে এবার আর অভ্যন্তরীণ রুটে নয় বগুড়ায় স্থাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দর। দেশের উত্তর জনপদের আকাশ পথ যোগাযোগ, অর্থনীতি ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে বিমান বন্দরের পাশাপাশি গড়ে তোলা হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের প্রথম বিমান ঘাঁটি ও অত্যাধুনিক ফ্লাইং একাডেমি। যেখানে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে সকল শিক্ষার্থী পাইলট হিসাবে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন: নরসিংদীতে একদিনে তিন মরদেহ উদ্ধার

উক্ত ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর স্কুল পরিদর্শন শেষে এতথ্য জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংকালে শুরুতেই বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন যে, উত্তরাঞ্চলে একটি অত্যাধুনিক বিমান ঘাঁটি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল সুবিধা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন: নাজিরপুরে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮ শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর বিপরীতে ছাত্রী তিনজন

এতে তিনি আরও বলেন যে, বগুড়া এয়ার ফিল্ডকে পর্যায় ক্রমে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। দ্রুত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিমান বাহিনী সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

এসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন যে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কৃষি, শিল্প ও পর্যটনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বগুড়াকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উপযুক্ত পাইলট তৈরি করতে ফ্লাইং একাডেমিও করা হবে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বগুড়াকে দেশের অন্যতম এভিয়েশন হারে রূপান্তর করা হবে। এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই এই বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে সম্ভাবনাময় আগামীর নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও। আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং প্রদান কালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া ২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মীর শাহে আলম বলেন যে, গত ২০শে এপ্রিল বগুড়ার জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কার্গো সুবিধা নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি। আর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের প্রথম সামরিক বিমান ঘাঁটি বগুড়াতে স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া বিমান বন্দরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাইলট একাডেমি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে সামরিক পাইলটদের পাশাপাশি বেসামরিক তরুণ-তরুণীদেরও পাইলট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন যে, এই আন্তর্জাতিক মানের বিমান বন্দরের জন্য প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ফুট রানওয়ে প্রয়োজন হবে। বিদ্যমান রানওয়ে সম্প্রসারণ করে সেই মানে উন্নীত করা হবে। ভবিষ্যতে এই বিমান বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি কার্গো ও সামরিক বিমান চলাচল করবে। এতে উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। রানওয়ে সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধক স্থাপনা অধিগ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে বড় মহর গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চবিদ্যালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এদিকে পরিদর্শন কালে বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা বিএনপি'র সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোশারফ হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিমান বন্দরটি চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এমন প্রত্যাশা বলে মনে করেন তারা।