চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর বিএসএফের আরেক চেষ্টা ব্যর্থ

Any Akter
এম এম লিংকন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গর্বিতা নারী গীতা
প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৩ অপরাহ্ন, ২০ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আবারও নারী ও শিশুসহ ২০ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা চালিয়েছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শনিবার ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।  সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ধারাবাহিক পুশইনের অভিযোগের মধ্যে এ ঘটনাকে নতুন করে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সীমান্ত সংশ্লিষ্টরা। 

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। বিএসএফ তাদের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাধা দেয়। এ সময় সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষও বিজিবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিরোধে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের সেই কারখানায় ফের বয়লার বিস্ফোরণে আগুন

স্থানীয়দের দৃঢ় অবস্থান এবং বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে তারা সীমান্তের জিরো লাইন সংলগ্ন ভারতের শুকদেবপুর এলাকায় অবস্থান নেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুশইন চেষ্টায় ব্যবহৃত ওই ব্যক্তিরা বর্তমানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা থেকে প্রায় ৬০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় চৌকা সীমান্তে বিজিবির টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পূজা উদযাপন পরিষদের মানববন্ধন

৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “চৌকা বিওপি এলাকায় পুশইনের একটি চেষ্টা হয়েছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক ও দায়িত্বশীল অবস্থানের কারণে তাদেরকে সীমান্তের ভারতীয় অংশেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্তের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অধিনায়ক পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পরিচয়ধারী ও সন্দেহভাজন বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুশইনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। কুড়িগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, যশোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও প্রচলিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে একতরফাভাবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক আস্থার জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশ বা উত্তেজনা এড়াতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।