শিশু ধর্ষণের পর হত্যা: দোষী সাব্যস্ত আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড, ৫ কর্মদিবসে রায়

Sanchoy Biswas
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৮ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাড়ে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে আবু তাহের (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অপরাধের আলামত গোপন ও মরদেহ লুকিয়ে রেখে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টার দায়ে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করল ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ছালেহউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় কৃষকদের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গোপন করে অপরাধের আলামত নষ্ট ও বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টার দায়ে তাকে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের সাড়ে চার বছরের শিশুটিকে খাদ্যসামগ্রী কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ কক্ষে নিয়ে যান প্রতিবেশী আবু তাহের। সেখানে তিনি শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে অপরাধের বিষয়টি গোপন করতে তার মুখ ও নাক চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: ভূজপুর সীমান্তে ভারতীয় নাগরিক আটক করেছে বিজিবি

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একই রাতে শিশুটির মরদেহ একটি বস্তার মধ্যে ভরে পাশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে তদন্তে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটিত হয়।

ঘটনার পর আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৭ জুন আদালত অভিযোগ গঠন করেন। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আলামত, তদন্ত প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতের সামনে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে রোববার শুনানি সমাপ্ত হয়। পরদিনই আদালত রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ায় এটি দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রায় ঘোষণার পর নিহত শিশুর বাবা আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন চাই দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হোক।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, “এটি ছিল একটি জঘন্য, নির্মম ও বিবেক নাড়া দেওয়া অপরাধ। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।”

অন্যদিকে, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম জোয়ার্দার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।