অন্ধকারে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা, বিজিবি-জনতার কঠোর অবস্থানে পিছু হটল বিএসএফ

Any Akter
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৯ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া সীমান্তে গভীর রাতে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি হঠাৎ নিভিয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত প্রতিরোধের মুখে সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি। ঘটনাটি সীমান্তে বিদ্যমান আস্থা, দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রটোকল মেনে চলার বিষয়টি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় পৌনে ১০টার দিকে ভারতের অভ্যন্তরে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করেই নিরাপত্তা বাতিগুলো নিভে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হলে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। একই সময়ে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক অবস্থান গ্রহণ করে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অবহেলায় বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গ্রামবাসী ও বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতি এবং সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্তের ওপারে পুনরায় আলো জ্বালানো হয়। তখন সেখানে বিএসএফের একাধিক যানবাহন এবং সাদাপোশাকে কয়েকজন ব্যক্তির চলাচল লক্ষ্য করা যায়। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাতভর সীমান্তে নজরদারি জোরদার রাখা হয়।

শনিবার সকালে ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের একটি প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বেড়ায় ভাঙন ও বন্যা আতঙ্কে নদী পাড়ের মানুষ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের ১১৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মল্লিক সুলতানপুর ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস-এর নিকটবর্তী এলাকায় আকস্মিকভাবে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করা হয়। একই সময়ে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৬০০ গজ অভ্যন্তরে ভারতের মুসলিমপাড়া এলাকায় আনুমানিক ১২ জনের সমাবেশ লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় কঠোর সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

বিজিবির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের নিজেদের যানবাহনে করে মালদাহের একটি হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যায়।

৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পারস্পরিক সমন্বয়, আস্থা এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া উচিত। সীমান্তে একতরফাভাবে কোনো ব্যক্তিকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ কেবল নিরাপত্তা ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সীমান্তে বিদ্যমান সমন্বয় কাঠামো আরও কার্যকর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন বিশ্লেষকেরা।