জামালপুরে চাঞ্চল্যকর চাচা-ভাতিজা হত্যা: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

Sanchoy Biswas
মোরাদুজ্জামান, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৫৫ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৪ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বহুল আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া হত্যা মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম ও ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: পরশুরাম সোনালী ব্যাংকের গেট থেকে ১ লাখ টাকা ছিনতাই

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাখাওয়াত (৩২), তাই জলের ছেলে সোহেল (৩০), আছর শেখের ছেলে আল আমিন (৩১), মৃত ভোলার ছেলে সাদ্দাম (৩১), কামালের ছেলে উজ্জ্বল (৩১), সোজা মিয়ার ছেলে অন্তর (৩১) এবং শহিদুলের ছেলে ফয়জুর (৩৩)।

আরও পড়ুন: জিএমপির নতুন পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—একই গ্রামের মৃত গিয়াসের ছেলে চান মিয়া (৫১), আছর শেখের ছেলে জিয়ার (৪৬), মৃত ভোলার ছেলে শাহ আলম (৪৬), রফিজলের ছেলে কাউসার (৩০), তারা মিয়ার ছেলে রিফাত (৩২), আব্বাস আলীর ছেলে সুমন (৩২) এবং মৃত নাটু শেখের ছেলে মুস্তফা (৫০)।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়াকে কৌশলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর একটি পাটক্ষেত থেকে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মহর আলী ছিলেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্বপন মিয়া পড়তেন দশম শ্রেণিতে।

রায়ে সন্তুষ্ট স্বজনদের, আপিল করবে আসামিপক্ষ

দীর্ঘ প্রায় এক দশক তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।