নাকুগাঁও বন্দরে আবারও চালু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি

Sanchoy Biswas
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৯ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও সড়কধসের কারণে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দরে আবারও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে পাথরবাহী ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পুনরায় সচল হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাকুগাঁও স্থলবন্দরের অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) জাহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: ‘ধর্মীয় কারণ নয়’, নদীভাঙন ও কৃষকের ধান রক্ষায় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি

স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডালু-তুরা জাতীয় মহাসড়কের (এনএইচ-২১৭) বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস নামায় ভারী যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতের ডালু এলাকার ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশমুখী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে গত ১২ জুন থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। এতে স্থবির হয়ে পড়ে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।

আরও পড়ুন: সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

বৃহস্পতিবার সকালে পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে ফের সচল হয় বন্দরটি। প্রথম দিনেই ভারত থেকে পাথরবাহী ৩৭টি ট্রাক নাকুগাঁও স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে।

দীর্ঘদিন আমদানি বন্ধ থাকায় বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। আমদানিকারক, পরিবহন শ্রমিক, পাথর শ্রমিকসহ বন্দরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। পাথর ও কয়লা আমদানি পুনরায় শুরু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে আবারও গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩৭টি পাথরবাহী ট্রাক এসেছে। এখন থেকে প্রতিদিন ভারত থেকে পাথর আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

নাকুগাঁও স্থলবন্দরের অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারতের অংশে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রায় দুই মাস পাথর ও কয়লাবাহী কোনো ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।’

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পাথরবাহী ৩৭টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্য দিয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’