গাজীপুরে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৩৪ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫৬ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় এক ঘণ্টা কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে হাসপাতালটির চিকিৎসক, শিক্ষার্থীরা।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রাস্তায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাজহারুল আলম।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় অগ্নিকাণ্ডে দোকানঘর ভষ্মিভুত

ড্যাবের গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডা. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. জুবাইদা সুলতানা, জেলা ড্যাবের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহজাহান সিরাজ, ড্যাব নেতা ডা. এনামুল হক, ডা. খায়রুজ্জামান, ডা. আবু বকর সিদ্দিক, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুস সালাম, আরএমও ডা. ফরহাদ, ডা. কামরুল করিম, ডা. নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।

মামলার ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. আশাদুজ্জামান মন্ডল বাদী হয়ে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সৈকত (২৫) নামে এক যুবককে আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কোটবাড়ি থেকে নিখোঁজ অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহে আটক ১

চিকিৎসক নেতারা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে জনৈক আব্দুল হালিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি স্ট্রোকজনিত সমস্যায় হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার চিকিৎসার জন্য রোগীকে সিটিস্ক্যান করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় রোগীর লোকজন রোগী আব্দুল হালিমকে বাইরে থেকে সিটিস্ক্যান করে রোগীসহ রিপোর্ট হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে নিয়ে আসে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার একই রাত ৮টার দিকে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউরোসায়েন্স ঢাকা হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

রোগীর লোকজন রোগীকে হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউরোসায়েন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। এদিকে রাত অনুমান পৌনে ১১টার দিকে রোগীকে পুনরায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক মাহমুদা রানী উক্ত রোগীকে ইসিজি করার পরামর্শ দেন। ইসিজি করার পর রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষণা করার পর রোগীর স্বজন সৈকত (২৫) তার সহযোগীদের নিয়ে ৭-৮ জনকে নিয়ে জরুরি বিভাগের মেডিসিন ট্রলি ভাঙচুর করে সরকারি ঔষধপত্র ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে অনুমান এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়। হামলাকারীরা জরুরি বিভাগের কর্মরত ডাক্তার মাহমুদা রানীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ সময় হাসপাতালের কর্মরত আনসার কমান্ডার গোলাম মোস্তাফা এগিয়ে এসে তার ডান হাত দিয়ে ফিরালে উক্ত আঘাত তার ডান কাঁধে গেলে হাড় ভেঙে যায়। তারা আনসার কমান্ডারকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। পরে অন্যান্য রোগীর স্বজনরা চিকিৎসক ও আনসার সদস্যকে উদ্ধার করে।

চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অভিযুক্ত অপরাধীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দাবি জানান।