বিদ্যালয় রক্ষার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন

Shahrier Islam Pallab
‎নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৩ অপরাহ্ন, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেত্রকোণার মদনে মগড়া নদীর ভাঙন থেকে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় নেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কাজ শেষ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

‎গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। তাঁরা প্রকল্পের নির্মাণকাজের মান যাচাই, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নদীভাঙনের কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে স্তন ক্যান্সার সেবার বিস্তারে ৫ দফা দাবি

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মগড়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে রয়েছে বিদ্যালয়টি। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ১৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি সুরক্ষিত হবে, এমন প্রত্যাশা ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর। কিন্তু কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠায় এখন প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরুর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ও ভেজা বালু ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, অভিযোগের সত্যতা থাকলে এ প্রকল্প নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

‎এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা হুসাইন কবির পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

‎‎মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার, অভিযোগকারী হুসাইন কবির, স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম আকন্দ, জাকির হোসাইন রুবেল, মনু মিয়া, চান মিয়া ও সায়েম মিয়াসহ অন্যরা।

‎মানববন্ধনে সায়েম মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজটি যথাযথভাবে পরিদর্শন করেছেন কি না, তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় করা হলে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‎আশরাফুল ইসলাম আকন্দ বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষায় প্রকল্প নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু যেভাবে কাজ করা হয়েছে, তাতে এটি এক বর্ষাও টিকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তিনি কাজের মান যাচাই ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

‎বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাভলী আক্তার অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শুরু থেকেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীকে বিভিন্ন বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এমনকি কাজ শেষ হওয়ার পরও প্রকল্পের প্রাক্কলন সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

‎লাভলী আক্তার বলেন, বিদ্যালয় রক্ষার প্রকল্পটি নিয়ে তাঁরা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু কাজের শুরু থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারের সঙ্গে তাঁদের চোর-পুলিশ খেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁরা হতাশ। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে বিদ্যালয়টি রক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

‎অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎এদিকে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও নির্মাণকাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর অতিরিক্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎‎বিদ্যালয়টি নদীভাঙন থেকে রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।