জকিগঞ্জে সুরমার ভাঙনে বসতবাড়ি-মসজিদ বিলীন হওয়ার শঙ্কা

আটগ্রাম নালুহাটিতে ৫০ মিটার বেড়িবাঁধ ধস, শুকনো মৌসুমেই সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

Sanchoy Biswas
আহসান হাবীব লায়েক, জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৪ অপরাহ্ন, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেটের জকিগঞ্জে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ১৫টি বসতবাড়ি ও একটি জামে মসজিদ। উপজেলার আটগ্রাম নালুহাটির চরিগ্রাম এলাকায় নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। এতে আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে আকস্মিকভাবে বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের ফলে খলিলুর রহমান, ফজই মিয়া, ফখরুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিনসহ প্রায় ১৫টি পরিবারের বসতবাড়ি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে হুমকিতে পড়েছে চরিগ্রাম গাঙ্গপার জামে মসজিদ।

আরও পড়ুন: উলিপুরে প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

স্থানীয় ইউপি সদস্য উস্তার হোসেন চৌধুরী বলেন, নদীভাঙনে এলাকার মানুষের বসতবাড়ি ও মসজিদ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কার ও স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান, ফজই মিয়া, ফখরুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিন বলেন, নদীভাঙনে তাঁদের বসতবাড়ি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। যেকোনো সময় ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা বলেন, এখনো শুকনো মৌসুম থাকায় দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরে নদীতে পানি বাড়লে সংস্কারকাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে তাঁদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, হারাতে হতে পারে একমাত্র সম্বল বসতভিটা। তাই দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: নীলফামারীতে এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ প্রদান

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জকিগঞ্জ পওর শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী ও শাখা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, 'বৃহস্পতিবার দুপুরে আকস্মিকভাবে বাঁধটি ধসে পড়ে। কয়েক দিন আগেও এই রাস্তা দিয়ে গাড়িতে করে আমাদের ব্লকের কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এখন প্রায় ৫০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখানে আগে থেকেই ব্লকের কাজ চলমান রয়েছে।'

এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতবাড়ি ও মসজিদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত অংশ সংস্কার এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।