গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ কি তবে নিয়তি? অভ্যুত্থান-পরবর্তী অরাজকতা ও বিপন্ন সাংবাদিকতা

Any Akter
মতামত ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৮ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী ইসরাত জাহান (৪৩)। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা, সন্তানকে অপহরণের হুমকি এবং অর্থ দাবিসহ নানা ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।

ইসরাত জাহানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে একদল ব্যক্তি তাঁর বাসভবনে গিয়ে হয়রানি করে এবং তাঁর সন্তানকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেল ও কিছু পুরোনো প্রশ্ন

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাঁর গাড়িচালককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতেও হুমকি অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর অর্থ দাবি করে তাঁকে আবারও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

ইসরাত জাহান বলেন, এসব ঘটনার কারণে তিনি নিজের বাসা ও কর্মস্থল—কোনো জায়গাতেই নিরাপদ বোধ করছেন না। পরিবার নিয়ে তিনি উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান।

আরও পড়ুন: অবক্ষয়ের ছায়ায় প্রবৃদ্ধির আলো: দ্বিমুখী বাস্তবতা

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি এখন চরম অনিশ্চয়তা এবং পরিবার নিয়ে ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার বাসভবন এবং কর্মস্থল কোথাও নিরাপদ বোধ করছি না।”

তিনি আরও বলেন, তাঁর বা পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সরকারের ওপরও বর্তাবে। তাঁর ভাষায়, “আমার যদি কোনো ক্ষতি হয়, তবে তার পূর্ণ দায়ভার এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে।”

ইসরাত জাহানের অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রতিহিংসার কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি করা হলে তা সাংবাদিকদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় তিনি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

তবে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও এখানে করা হয়নি।