ঢাকায় ১৭৭১টি ঈদ জামাত, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪০ অপরাহ্ন, ১৯ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি জানান, ঈদ জামাতকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এসবি প্রধানসহ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল

ডিএমপি কমিশনার জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে; প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।

তিনি আরও বলেন, আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: র‍্যাবের নতুন মহাপরিচালক ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহসহ রাজধানীর সব ঈদ জামাতস্থলে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোর মুখ—মৎসভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হবে। এসব পয়েন্টেও তল্লাশি ব্যবস্থা থাকবে এবং নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

তিনি জানান, ঈদ জামাতকে ঘিরে পুলিশের টহল জোরদার থাকবে। মুসল্লিদের নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে এবং নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট, ডিবি ও সাদা পোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার ও জরুরি চিকিৎসা দল প্রস্তুত থাকবে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব লিংক রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ডাইভারশন থাকবে। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিদের পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।

মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি অনুরোধ জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিতে সহযোগিতা করতে, নির্ধারিত গেট ব্যবহার করতে এবং কোনো ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু বহন না করতে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।