রাজধানীসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন
নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানীসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো: ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর। সোমবার (২২ জুন) এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে সোমবার (২২ জুন) সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে চিঠিটি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিচারপতি রেজাউল হককে প্রধান করে ৫ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন
চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শো–ডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় নয় দিনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়।
আরও পড়ুন: পুলিশের পোশাকে ফের পরিবর্তন, গাঢ় নীল-অলিভ রঙে ফিরছে ইউনিফর্ম
২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা কাজ করবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং নগরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুরো ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরের সবকটি প্রবেশপথে কড়া চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১০ মে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে। সংশোধিত ওই আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন পায়। এতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।





