সিন্ধু নদীর পানি ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:০১ অপরাহ্ন, ২২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে পানি বিরোধকে কেন্দ্র করে সরাসরি সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত হওয়াকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ভারতবিরোধী সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, এবং পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই অংশ, হুমকিতে পড়েছে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব।”

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সীমান্তে স্থলবন্দর নির্মাণ করবে ভারত

তিনি দাবি করেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানি সরবরাহ ব্যাহত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয় এবং এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

এই মন্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে গত এপ্রিল মাসে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলা। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো ধ্বংসে দৃশ্যমান ও নির্ভরযোগ্য পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ জলচুক্তির আওতায় পাকিস্তান সাধারণত সিন্ধু অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পানির ব্যবহারিক সুবিধা পেয়ে থাকে। দেশটির কৃষি খাত ব্যাপকভাবে এই পানির ওপর নির্ভরশীল।

তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভারত পানিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তার দাবি, চেনাব নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যও গোপন রাখা হচ্ছে।

যদিও একই সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ স্বীকার করেন যে, অতীতে পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা ভারতের বিভিন্ন জলপ্রকল্প প্রায় ১১৫ বার পরিদর্শন করলেও গত এক বছরে ভারতীয় জলব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও অবকাঠামোগত সংকটও দেশটির পানি সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে পানির সংকটে ভুগছেন।

সিন্ধু প্রদেশের সেচ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম খালে পানির ঘাটতি ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে প্রায় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

দক্ষিণ পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সুক্কুর ব্যারাজে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ পানি বণ্টন ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক বিরোধও দেশটির বর্তমান পানি সংকটের অন্যতম কারণ।