সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে ফের বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে ফের বাড়ল সোনার দাম। সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সোনা পৌঁছেছে সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা।
নতুন এই মূল্য আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।
আরও পড়ুন: ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের
মাত্র দুই দিন আগেই, গত ২৬ জানুয়ারি, সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দাম বাড়িয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল এই মূল্যবান ধাতু।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৩ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৭৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা।
আরও পড়ুন: ভরিতে ৫ হাজার টাকা বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ
তবে ক্রেতাদের সোনা কেনার সময় নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি পরিশোধ করতে হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে এই মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
চলতি বছরের প্রথম মাসেই সোনার দাম মোট ১৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২ বারই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। এর আগের বছর ২০২৫ সালেও সোনার বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। সে বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ৬৪ বারই ছিল মূল্যবৃদ্ধি।
বিশ্ববাজারে সম্প্রতি সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সোনা।
অন্যদিকে সোনার দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকায় অপরিবর্তিত আছে, যা রুপার ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড। চলতি বছরে রুপার দামও ১১ বার সমন্বয় করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপার চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এর প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মূল্য অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।





