বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা ও রুপা

Any Akter
অর্থবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় সুদহার কমানোর সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে, ফলে বিশ্ববাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে সোনা ও রুপা। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনা ও রুপার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।  বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে—বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে—স্পট সোনার দাম এক শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩২ দশমিক ০৩ ডলার। এর আগে লেনদেনের একপর্যায়ে সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়।

এদিন রুপার দামে আরও বেশি উত্থান দেখা গেছে। স্পট রুপা ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসে প্রথমবার। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন: আগামীকাল থেকে মার্কেট-শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধের ঘোষণা

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআইয়ের সর্বশেষ তথ্য বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ বাড়িয়েছে। ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে কম। মাসিক ভিত্তিতে মূল সিপিআই বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে পূর্বাভাস ছিল ০ দশমিক ৩ শতাংশ।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, মূল্যস্ফীতির এই তুলনামূলক শান্ত চিত্র বিনিয়োগকারীদের শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা জিইয়ে রেখেছে।

আরও পড়ুন: রপ্তানি খাতে ২,৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড়

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের প্রতি সুদহার ‘গুরুত্বপূর্ণভাবে’ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যাংকার ও সাবেক ফেড চেয়ারম্যানরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর আস্থার প্রশ্ন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা আরও বাড়িয়েছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে দুই দফায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ করে সুদ কমানো হতে পারে, যার প্রথমটি জুনে হতে পারে।

কম সুদের পরিবেশ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় সুদহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ঐতিহ্যগতভাবে লাভবান হয়। এএনজেড ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপর উঠতে পারে।

রুপার ক্ষেত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। গোল্ডসিলভার সেন্ট্রালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রায়ান ল্যান বলেন, রুপার পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে পারে প্রতি আউন্স ১০০ ডলার।

এদিকে, বুধবার প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৬০ ডলারে উঠেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৫৪ দশমিক ৭০ ডলারে।